অনুষ্কার পথে এবার ক্যাট আর প্রিয়াঙ্কাও
বলিউডে নায়কদের ছবি প্রযোজনায় আসা একেবারেই নতুন নয়, এটা যেমন ঠিক, তেমনই নায়িকাদের ছবি প্রযোজনাতে আসাটাও খুব পরিচিত দৃশ্য নয়। তাও আবার এমন এক দর্শন নিয়ে যা নায়কদের ছবি বাননোর দর্শনের থেকে ১৮০ ডিগ্রি উল্টো দিকে থাকা।
সম্প্রতি অনুষ্কা শর্মা প্রযোজনায় এসেছেন। এবার সেই তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন ক্যাটরিনা কাইফআব প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও।
ক্যাটরিনা কাইফ যে প্রযোজনায় আসছেন, এমন কথা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এবং একেবারে আন্তর্জাতিক রিলিজ করা হবে, এমন ছবিই নাকি ক্যাটরিনার প্রোডাকশন হাউজ থেকে তৈরি হবে।
নিজের প্রোডাকশন হাউজ তৈরির বিষয়ে এক ফরাসি ফিল্ম কোম্পানির সঙ্গেও কথা হয়েছে ক্যাটরিনার। এবং তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপেই নাকি প্রযোজনার কোম্পানি খুলতে চলেছেন তিনি।
এমনকী এমন খবরও শোনা যাচ্ছে, ওই কোম্পানির সঙ্গে ক্যাটরিনার কথা হয়ে গিয়েছে ফরাসি ভাষায় একটি ছবি তৈরির বিষয়েও। সেই ছবিটি নাকি একই সঙ্গে ফ্রান্স এবং ভারতে মুক্তি পাবে। তবে এই খবরের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পর্যন্ত হয়নি।
বরং পরে শোনা গিয়েছে ফরাসি কোম্পানিটির সঙ্গে ক্যাটরিনার সম্পর্ক নাকি একটু ফিকে হয়ে গিয়েছে। অভিনেত্রীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার মতো কিছু ঘটেনি। তেমন কিছু ঘটলে নাকি তিনি নিজেই বলবেন।
তবে ক্যাটরিনা এই তালিকায় একা নন। ক্যাটরিনার ছবি প্রযোজনার কাজে আসার খবর চাউড় হতে না হতেই খবর পাওয়া গিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও নাকি নিজের প্রোডাকশন হাউজ তৈরি করতে চলেছেন। তার লক্ষ্য শুধুমাত্র বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবি বানানো নয়, বরং ভালো গল্প রয়েছে, ছবি হিসাবে হাই কনটেন্টওয়ালা হবে এমন ছবিই নিজের প্রোডাকশন হাউজ থেকে বানাতে চান তিনি।
তবে শুধুমাত্র ছবি প্রযোজনাই নয়, প্রিয়াঙ্কার লক্ষ্য নাকি পাশাপাশি একটি মিউজিক কোম্পানিও তৈরি করা। যদিও দু’টো কোম্পানিই এখন পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। আশা করাই যায়, অবিলম্বে দু’টি কোম্পানির বিষয়েই প্রিয়াঙ্কা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন।
আপাতত এই দুই প্রথম সারির নায়িকা, যারা নিজেদের কেরিয়ারেও ভালো অবস্থায় রয়েছেন, মূলধারার পাশাপাশি আলাদা ধরনের ভালো ছবি বানানোর উদ্যোগ নিয়ে ছবি প্রযোজনাতে আসতে চাইছেন।
কিন্তু এই ট্রেন্ডটা একেবারে নতুন, তাও নয়। এর আগেও অন্য ধরনের ছবি বানাবেন বলে প্রোডাকশন হাউজ খোলার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেন। ঝাঁসি কি রানি নামে একটি ছবি তৈরির পরিকল্পনাও তিনি নেন নিজের প্রোডাকশন হাউজ থেকে। কিন্তু সেই প্রোজেক্ট খুব বেশি দূর এগোয়নি।
যত দূর শোনা যাচ্ছে, সুস্মিতা নাকি আবার নিজের প্রোডাকশন হাউজের কাজ শুরু করার কথা ভাবছেন। তার মতো করেই নাকি ছবি তৈরির কাজে আসার কথা ভাবছেন লারা দত্ত-ও।
তবে এর আগে তিনি এবং তার স্বামী মহেশ ভূপতি মিলে ২০১১ সালে ‘চলো দিল্লি’ নামে একটি ছবি বানান। সমালোচকদের কাছেও সেই ছবি প্রশংসিত হয়। একই ভাবে ভাবছেন মনীষা কৈরালাও। ২০০৪ সালে ‘পয়সা ভসুল’ নামে একটি ছবি তিনি বানিয়েছিলেন নিজের প্রোডাশন হাউজ থেকে। বক্স অফিসে সেভাবে জমেনি ছবিটি। এবার তিনিও ভাবছেন বলিউডে কামব্যাকের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও তিনি আবার কেরিয়ার তৈরি করার উদ্যোগ নেবেন।
নিজের কেরিয়ারে আবার একটু গতি দিতে আমিশা প্যাটেলও প্রযোজক হিসাবে নামতে চলেছেন। ‘দেশি ম্যাজিক’ নামে একটি ছবি তিনি তৈরি করতে চলেছেন, যেখানে নায়িকার চরিত্রেরও অভিনয় করবেন তিনি। ছবিতে তার নায়ক হওয়ার কথা জায়েদ খানের। ছবিতে থাকবেন শাহিল শ্রফ।
অভিনেত্রী দিয়া মির্জাও জায়েদ খানের সঙ্গে মিলিত ভাবে এক প্রোডাকশন হাউজ তৈরি করেন, যে হাউজের ছবিতে নায়িকা-নায়কের ভূমিকায় ছিলেন দিয়া এবং জায়েদই।
কিন্তু এমন অনেক নায়িকাই রয়েছেন, যারা কিন্তু এই ধরনের তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। সেই তালিকায় রয়েছেন শিল্পা শেঠিও।
তবে এরপরেও এখনও পর্যন্ত নায়িকা থেকে যারা প্রযোজক হয়ে গিয়েছেন, সেই তালিকায় পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বোধহয় সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন পূজা ভাট। তার নিজের কোম্পানির তরফে তিনি বহু ছবিই প্রযোজনা করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। ‘দুশমন’, ‘জখম’, জিসম’ এর মতো সফল ছবি বানিয়েছেন।
তবে এখন নাকি তিনি সেই সমস্ত ছবিই বানাতে চাইছেন, যাতে গল্প ভালো হবে। এবং পূজা নাকি তার এই ছবিতে কোনও বড় তারকাকে নেওয়ার কথাও ভাবছেন না।
প্রীতি জিন্টা আব দিয়া মির্জার বক্তব্যের সারমর্মই ছিল, নায়করা যখন ছবি প্রযোজনা করেন, তখন সেটাকে ব্যবসায়িক লগ্নী হিসেবেই দেখেন। অর্থাৎ, তাদের প্রযোজনায় করা ছবিগুলিকে বক্স অফিসে সফল হতেই হবে। অন্যদিকে নায়িকারা ঠিক সাধারণ চাকরিরতা মেয়েরা যেমন সোনায় বা অন্যকিছু শখের দামী জিনিসে ইনভেস্ট করেন, তেমন মানসিকতা থেকেই তাদের রোজগারের কিছুটা অংশ প্রযোজনার কাজে লাগাচ্ছেন।
তাদের লক্ষ্য বক্স অফিসে কোটি টাকার ব্যবসা মোটেও নয়। কেবল ছোট প্রযোজনায়, প্ল্যানমাফিক, কম খরচে ছবি বানিয়ে রিস্ক কমানো, যাতে, যাই ঘরে আসুক, তা যেন লাভ্যাংশই হয়। তবে, এই লক্ষ্যে প্রীতির ‘ইস্ক ইন প্যারিস’ যে সফল হয়নি, তাও উল্লেখ্য।
অবশ্য এর বাইরেও একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রির ওয়াকিবহাল সূত্রে। তাদের মতে, বলিউডে নায়িকাদের রোজগার এখন ভালোই। আর বলিউডের নিয়মই হল, বেশিরভাগ লেনদেনই হয় ‘ক্যাশ’-এ। সে কারনেই একটা প্রযোজনা সংস্থা খুললে নায়িকাদের সুবিধা। হাতের কাঁচা টাকাটা এখানে লগ্নী করা যায়। পেমেন্টও নিয়ম মেনেই করা যায়, ব্যাঙ্ক ইত্যাদির ঝামেলা না পুইয়েই।

No comments:
Post a Comment